গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একটি মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বক্তব্য আদালতে রেকর্ড করা হয়েছে এবং মাদ্রাসা থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
ঘটনাটি টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বারিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় ঘটেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০) ওই প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
পরিবারের অভিযোগ
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, গত ১৯ অক্টোবর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটির সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। এ বিষয়ে কাউকে জানালে মারধর করার ভয় দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর শিশুটি ভীত হয়ে পড়ে এবং টানা কয়েক দিন মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরে পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে শিশুটি তাদের কাছে ঘটনার কথা জানায়।
এরপর শিশুটির বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষকের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চান। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
মামলা ও পুলিশের তদন্ত
শিশুটির বাবার করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে শিশুটির বক্তব্যও আদালতে রেকর্ড করা হয়।
২৪ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ মাদ্রাসা পরিদর্শন করে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে শিশুটিকে নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত তখনো চলমান ছিল।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পাল্টা অভিযোগ
এদিকে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেন অভিযোগ করেছেন, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে একদল লোক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে শিক্ষককে মারধর করেন। এ সময় অন্য শিক্ষক ও নিরাপত্তাকর্মীরাও আক্রান্ত হন বলে তাঁর দাবি।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আরও অভিযোগ করেছে, প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ভাঙচুর করে ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগে কর্তৃপক্ষ থানায় পৃথক মামলা করেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে শিশুটির বাবা টাকা লুট ও পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ
২৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদ্রাসাছাত্রীর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকের জামিন আবেদন আদালত নাকচ করেছেন। একই ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের করা পৃথক মামলাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।