প্রকাশের তারিখ: ২১ অক্টোবর ২০২৬
দেশের ২৮ জেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৮০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে অপরিপক্ব কলা পাকানো, অনিরাপদ পাত্রে ভোজ্যতেল সংরক্ষণ এবং পণ্য বিক্রিতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে গত ১৯ অক্টোবর সোমবার এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কলা এবং ইউরিয়া-ফরমালডিহাইড ব্যবহৃত ড্রামে সংরক্ষিত প্রায় ২০৪ লিটার সয়াবিন তেল ধ্বংস করা হয়েছে। অধিদপ্তরের ৩৬টি দল ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে এ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে।
রাসায়নিক দিয়ে কলা পাকানোয় জরিমানা
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার স্টেশন রোড ও রেসকোর্স এলাকায় অভিযান চালিয়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে অপরিপক্ব কলা পাকানোর অভিযোগে ‘হালিমের কলার আড়ত’কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের সময় রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কলাগুলোও জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয়।
অন্যদিকে, রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কলা পাকানোর রাসায়নিক সংরক্ষণের দায়ে একটি ফলের আড়তকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে সতর্ক করা হয়।
অনিরাপদ ড্রামে সয়াবিন তেল, দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও কৃষি মার্কারে খোলা ভোজ্যতেল বিক্রির প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সময় অনিরাপদ পাত্রে তেল সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় লেবেল না থাকার মতো অনিয়ম পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় মেসার্স সততা স্টোরকে ২ লাখ টাকা এবং হেলাল জেনারেল স্টোরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সততা স্টোরে ইউরিয়া-ফরমালডিহাইড ব্যবহৃত ড্রামে রাখা আনুমানিক ২০৪ লিটার সয়াবিন তেল জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয়।
ডাব বিক্রিতেও অনিয়ম, চার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
রাজধানীর সাদেক খান কৃষি মার্কেটের ডাবের আড়ত এবং কলেজ গেট, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সামনের দোকানগুলোতে তদারকি চালানো হয়।
এ সময় ডাবের সরবরাহ, ক্রয়-বিক্রয়ের মূল্য, রসিদ সংরক্ষণ এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শনের বিষয়গুলো যাচাই করা হয়। ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ সংরক্ষণ না করা, ব্যবসার অনুমতিপত্র না থাকা এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করাসহ বিভিন্ন অনিয়মে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
আরও যেসব বিষয় নজরদারিতে ছিল
অভিযানে পাইকারি ও খুচরা বাজার, ফলের আড়ত, ভোজ্যতেলের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। এ সময় পণ্যের অতিরিক্ত দাম আদায়, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা, ওজন ও পরিমাপে কারচুপি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রি এবং নকল বা ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হয়।
ব্যবসায়ীদের খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার না করা, যৌক্তিক দামে পণ্য বিক্রি, সঠিক ওজন নিশ্চিত করা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করতে সতর্ক করা হয়।
ভোক্তাদের প্রতি অধিদপ্তরের পরামর্শ
পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং পণ্যের ওজন যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। কেনাকাটার সময় বিক্রেতার কাছ থেকে রসিদ সংগ্রহ করতেও বলা হয়েছে।
কোনো পণ্য কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায়, ভেজাল বা প্রতারণার শিকার হলে অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানানো যাবে।
অধিদপ্তরের লক্ষ্য হলো বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ন্যায্যমূল্যে পণ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য সরবরাহে অনিয়ম প্রতিরোধ করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশব্যাপী বাজার তদারকি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানের তথ্য এবং প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন।