স্টাফ রিপোর্টার ঢাকা
প্রকাশ : Sep 6, 2026 ইং

গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ৬ দফা দাবিতে ১১ দলের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ছয় দফা দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ শুরু হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। সমাবেশ শেষে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লং মার্চের গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
লং মার্চের চূড়ান্ত গন্তব্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দান। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা করার কর্মসূচিও রয়েছে। এর আগে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, লং মার্চে এক হাজারের বেশি যানবাহন অংশ নিতে পারে।

১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকটের নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধের দাবিও কর্মসূচির বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে।
জোটের নেতারা বলছেন, এসব দাবি কোনো নির্দিষ্ট দলের স্বার্থে নয়; জনগণের বিভিন্ন সমস্যা ও অধিকারকে সামনে রেখেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
সংসদে আগে থেকেই গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের বিষয় তুলেছিলেন শফিকুর রহমান
লং মার্চের অন্যতম প্রধান ইস্যু জ্বালানি সংকট নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এর আগেই সংসদীয় উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
গত আগস্টে তিনি দেশের তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দেন। চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়েও পাঠানো হয়। তিনি সংকট নিয়ে সংসদে অর্থবহ আলোচনা এবং দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।
অর্থাৎ লং মার্চে যে জ্বালানি ও জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো সামনে আনা হচ্ছে, সেগুলোর অন্তত কিছু বিষয় নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা এর আগেই সংসদীয় পর্যায়ে দাবি তুলেছিলেন।
গণভোটের রায় নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ
লং মার্চের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দাবিগুলোর একটি হলো গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন।
১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের অভিযোগ, জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। তাদের দাবি, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সরকারকে তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে বিরোধের মূল জায়গা শুধু গণভোটের রায় মানা হবে কি না—তা নয়; বরং কোন প্রক্রিয়ায় এবং কীভাবে সেই রায় বাস্তবায়ন করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন।

শাপলা চত্বরের উদ্বোধনী সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের কর্মসূচি ইতোমধ্যে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে এবং বিভিন্ন জায়গায় এর প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, জনগণের অধিকার নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে জনগণও কাউকে ছাড় দেবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকটে জনগণ ভুগছে, অথচ তাদের বিলও পরিশোধ করতে হচ্ছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

সমাবেশে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় গ্রেপ্তার কলেজ শিক্ষার্থী সিফাত আব্দুল্লাহকে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বানও জানান জামায়াত আমির।

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, লং মার্চে সরকার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ছয় দফা এক দফায় পরিণত হবে। তিনি আরও বলেন, কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হলেও তারা সব বাধা উপেক্ষা করে চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন।

লং মার্চকে কেন্দ্র করে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে আগে থেকেই সরকার ও প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। আয়োজকদের বক্তব্য, তারা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচি পালন করতে চান।

তবে জোটের নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করা হলে পরিস্থিতি আরও রাজনৈতিকভাবে কঠোর হতে পারে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও কর্মসূচিতে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে লং মার্চের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা এসেছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জ্বালানি সংকটের সময়ে বিপুলসংখ্যক যানবাহন নিয়ে লং মার্চ আয়োজনের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এমন কর্মসূচি চলমান জ্বালানি সংকটের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ফলে একই রাজনৈতিক পরিসরে থাকা সত্ত্বেও লং মার্চের প্রয়োজনীয়তা ও সময় নিয়ে বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে মতপার্থক্যও প্রকাশ্যে এসেছে।
সামনে আরও কর্মসূচি

১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চের পর আরও কয়েকটি রুটে লং মার্চ এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকায় বড় সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকারের ওপর ধারাবাহিক রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চায় জোটটি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে, আজকের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ শুধু একটি আঞ্চলিক কর্মসূচি নয়; বরং সংসদের বাইরে বড় পরিসরে বিরোধী জোটের শক্তি প্রদর্শন এবং সরকারের কাছে একাধিক রাজনৈতিক ও জনস্বার্থের দাবি তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আরও ১৪ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব

1

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকে ঢুকলে দেখা যাচ্ছে নতুন বার্তা

2

কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না

3

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজা সম্পন্ন, দাফন জ

4

রাষ্ট্র ধর্মনিরপেক্ষ না হলে কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, প্র

5

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান ডিআরইউয়ের

6

রিকশাচালককে গুলি করে হত্যা মামলায় কারাগারে চিকিৎসকসহ পাঁচজন

7

সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে টাস্কফোর্স গঠন, সদস্য ১৩ জন

8

মুক্তমত প্রকাশ–সংক্রান্ত ও গায়েবি মামলা ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্

9

টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের

10

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মহানবমী ঘিরে ধর্মীয় আবহ, দেবীর আরাধনায় ভক্

11

স্থানীয় সরকার নয়, জাতীয় নির্বাচন আগে চায় বিএনপিসহ বিভিন্ন দল

12

প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা পুনর্মূল্যায়নে ১৭ সদস্যের কমিট

13

সরকারের পাওনা ১২৬ কোটি টাকা, ফাঁকি দিতে অভাবনীয় জালিয়াতি ওসম

14

প্রধান উপদেষ্টাকে মার্চে বেইজিং সফরে নিতে আগ্রহী চীন

15

রান নেই–উইকেট নেই, তবু ম্যাচসেরা

16

প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন এই তারকারাও

17

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

18

তারেক রহমানের সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ড চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ, বন্দ

19

পুতিন-কিমের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প

20